১. বাংলাদেশের বিভিন্ন ভূমি জরিপের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জরিপ পরিচালিত হয়েছে। এদের মধ্যে সিএস, এসএ, আরএস এবং সিটি বা বিএস জরিপ সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
কোনো জমির মূল মালিকানা যাচাই করতে হলে যেমন সিএস খতিয়ান দরকার, তেমনি বর্তমান দখল ও সীমানা নিশ্চিত করতে হাল বিএস নকশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
| জরিপের নাম | পূর্ণরূপ | সময়কাল | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| সিএস (C.S) | Cadastral Survey | ১৮৮৮ – ১৯৪০ | সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আদি জরিপ ও খাঁটি সীমানা |
| এসএ (S.A) | State Acquisition Survey | ১৯৫৬ – ১৯৬৩ | জমিদারি উচ্ছেদের পর দ্রুত সম্পন্ন জরিপ |
| আরএস (R.S) | Revisional Survey | ১৯৬৫ – ১৯৯০ | সিএস-এর ভুলত্রুটি সংশোধনকারী নির্ভুল জরিপ |
| বিএস (B.S) / সিটি | Bangladesh Survey | ১৯৯৮ – বর্তমান | আধুনিক হাল জরিপ ও বর্তমান বৈধ সীমানা |
২. মৌজা ম্যাপের স্কেল পরিচিতি (১৬″ = ১ মাইল)
মৌজা ম্যাপের নিচের অংশে স্কেল উল্লেখ থাকে। সাধারণ গ্রাম্য অঞ্চলের কৃষি জমির ম্যাপ ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল (1:3960) অনুপাতে আঁকা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ বা শহর এলাকার নকশা ৩২ ইঞ্চি = ১ মাইল বা ৬৪ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে আঁকা থাকে।
দুটি ভিন্ন স্কেলের ম্যাপ (যেমন সিএস ১৬ ইঞ্চি এবং বিএস ৩২ ইঞ্চি) সরাসরি চোখে দেখে তুলনা করা যায় না। এর জন্য স্কেল সমন্বয় বা প্যান্টাগ্রাফ পদ্ধতির প্রয়োজন হয়।
স্কেলের অনুপাত সূত্র
১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল মানে হলো নকশার ১ ইঞ্চি বাস্তবের ৩৩০ ফুটের সমান। ঠিক একইভাবে গুণিয়ার প্রতি ১ দাগে ১০ লিংক বা ৬.৬ ফুট হিসাব করা হয়।
৩. সাবেক ও হাল দাগ মিলিয়ে সীমানা বের করার ডিজিটাল উপায়
Mouza Map Pro-এর প্যান্টাগ্রাফ (Pantagraph) টুলের সাহায্যে সিএস এবং বিএস নকশাকে একটির উপর আরেকটি স্থাপন করে অপাসিটি (স্বচ্ছতা) পরিবর্তন করে দেখা যায় সাবেক কোন দাগটি হাল বিএস-এর কোন দাগে রূপান্তরিত হয়েছে।
